| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

শিবপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ এনে নিহত বিল্লাল স্যারের পরিবারের এজহার দায়ের

রিপোর্টারের নামঃ দৈনিক শিবপুর দর্পণ
  • আপডেট টাইম : 26-06-2026 ইং
  • 16051 বার পঠিত
শিবপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ এনে নিহত বিল্লাল স্যারের পরিবারের এজহার দায়ের
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহিত ছবি

শিবপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ এনে নিহত বিল্লাল স্যারের পরিবারের এজহার দায়ের


নিজস্ব প্রতিবেদক:


নরসিংদীর শিবপুরে এক সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানসিক অত্যাচার ও প্ররোচনার শিকার হয়ে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ বিল্লাল হোসেন (৪৮) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আয়েশা আক্তার বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।


মামলার বিবাদী হলেন শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুদ্দিন মোঃ আলমগীর (বাদল) (৫৯), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-ধানুয়া, থানা-শিবপুর, জেলা-নরসিংদী।


এজাহার ও ঘটনা সূত্রে জানা যায়, নিহত মোঃ বিল্লাল হোসেন শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সহকারী প্রধান শিক্ষক (বর্তমানে সহকারী শিক্ষক) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সপরিবারে শিবপুর কলেজ গেট সংলগ্ন পাইলট স্কুলের পাশে একটি ভাড়া বাসায় দ্বিতীয় তলায় বসবাস করতেন।


বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, মোঃ বিল্লাল হোসেন বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই প্রধান শিক্ষক নুরুদ্দিন মোঃ আলমগীর (বাদল) তাঁকে নানাভাবে মানসিক অত্যাচার করে আসছিলেন। প্রধান শিক্ষকের এই লাগাতার মানসিক নির্যাতনের কারণে বিল্লাল হোসেন একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার মাঝেও শিক্ষক মিটিংয়ে এবং অন্যান্য শিক্ষকদের সামনে তাঁকে একাধিকবার অপমান ও অপদস্থ করা হয় বলে তিনি পরিবারের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।


গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল ০৯:০০ টা থেকে ০৯:৩০ মিনিটের মধ্যবর্তী সময়ে শিবপুর কলেজ গেইট সংলগ্ন ভাড়া বাসার ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বিল্লাল হোসেন।


খবর পেয়ে শিবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এই সময় পুলিশ ডাইনিং রুমের টেবিল থেকে "ক্যালক্যাল ভেট ওরাল" প্যাডের তিন পাতার একটি সুইসাইড নোট (চিরকুট) উদ্ধার করে।


হাতে লেখা ওই চিরকুটে নিহতের নাম উল্লেখ করে লেখা ছিল, "দীর্ঘ দিনের অসুস্থ, প্রধান শিক্ষক নূর উদ্দিন মো আলমগীর এর মানসিক অত্যাচারের জন্য আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী, আমার পরিবার একটি সুখী পরিবার ছিল। স্ত্রীর সাথে কোন দিন ঝগড়া পর্যন্ত হয় নাই। স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে সবাই নামাজ পড়ে। তাই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বলে যাই আমার পরিবারের সদস্যদের কোন হয়রানি করবেন না। সবার নিকট ক্ষমা চেয়ে বিদায় নিলাম। ইতি মো বিল্লাল হোসাইন, সহকারী প্রধান শিক্ষক, শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, শিবপুর, নরসিংদী।"


চিরকুটে মৃত্যুর জন্য প্রধান শিক্ষককে সরাসরি দায়ী করায় এবং দীর্ঘদিনের মানসিক অপমানের জের ধরেই এই আত্মহত্যা সংঘটিত হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। পারিবারিক সিদ্ধান্ত ও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করার কারণে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী আয়েশা আক্তার জানিয়েছেন।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক শিবপুর দর্পণ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ