রাজনীতি যখন আত্মস্বার্থের হাতিয়ার: ফুটপাতের আর্তনাদ ও ক্ষমতার নোংরা খেলা
বিশেষ প্রতিবেদন: নিয়ন আলোর নিচে যখন শহরের বহুতল ভবনগুলো চকচক করে, ঠিক তখনই তার নিচে ফুটপাতে, রেল স্টেশনের কনকনে ঠাণ্ডা কিংবা ভ্যাপসা গরমে জড়োসড়ো হয়ে ঘুমায় শত শত অসহায় মানুষ। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও আমাদের সমাজে এখনো প্রতিদিন লাখো মানুষকে লড়তে হয় তিন বেলা পেট ভরে খাওয়ার জন্য। ক্ষুধা আর দারিদ্র্য যেখানে নিত্যদিনের সঙ্গী, সেখানে দেশের একশ্রেণীর রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড দেখলে মনে হয়—জনগণের দুর্ভোগ যেন তাদের কাছে কেবলই এক তামাশা।
বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পর্যবেক্ষণ করলে একটি নির্মম সত্য বেরিয়ে আসে: রাজনীতি এখন আর জনকল্যাণের মাধ্যম নেই, এটি হয়ে উঠেছে দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের এক নোংরা হাতিয়ার।
জনগণ যেখানে জিম্মি
আজকের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা—অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ক্ষমতার দাপট। নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথে নামছে ঠিকই, কিন্তু তা ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য নয়, বরং নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য।
অরাজকতা, চাঁদাবাজি ও মারামারি
তুচ্ছ স্বার্থে দলগুলোর মধ্যে চলছে প্রতিনিয়ত মারামারি, সংঘাত ও হানাহানি। আর এর নেপথ্যে কাজ করছে চাঁদাবাজি ও পেশী শক্তির দাপট। সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফুটপাতের হকার—কেউ বাদ যাচ্ছে না এই চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট থেকে। যে রাজনীতির কাজ ছিল মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া, আজ সেই রাজনীতির চাদরে ঢেকে করা হচ্ছে নানা অরাজকতা। ক্ষমতার মসনদে বসার বা টিকে থাকার এই লড়াইয়ে বলি হচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
অসহায়দের নিয়ে উদাসীনতা
সবচেয়ে বড় পরিহাস হলো, নির্বাচনের আগে যে দলগুলো ফুটপাতের ছিন্নমূল মানুষের বুকে টেনে নেওয়ার নাটক করে, ভোটের পর তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায় না। তীব্র শীতে একটা কম্বলের জন্য বা একমুঠো ভাতের জন্য যখন অসহায় মানুষগুলো হাহাকার করে, তখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে রাজনৈতিক নেতারা লিপ্ত থাকেন ক্ষমতার ভাগাভাগির হিসাব-নিকাশে। ক্ষুধার্তদের ক্ষুধা নিবারণ বা ফুটপাতের মানুষের পুনর্বাসনের জন্য তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট মাথা ব্যথা বা কার্যকর পরিকল্পনা নেই।
উপসংহার
রাজনীতি যদি কেবলই নেতাদের পকেট ভারী করার এবং নিজেদের আখের গোছানোর মাধ্যম হয়, তবে সেই রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। ভাঙচুর, মারামারি আর চাঁদাবাজির এই নোংরা বৃত্ত থেকে রাজনীতিকে বের করে আনতে হবে। যে দিন পর্যন্ত ফুটপাতে ঘুমানো ওই অসহায় মানুষটির মুখে অন্ন আর মাথার ওপর ছাদ নিশ্চিত না হবে, সে দিন পর্যন্ত সব রাজনৈতিক বড় বড় ভাষণই ফাঁপা বুলি হিসেবে গণ্য হবে। দলগুলোর মনে রাখা উচিত, জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে তারা কিন্তু একদিন এই ক্ষমতার অহংকার চূর্ণ করে দিতে পারে। রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, নিজেদের স্বার্থের জন্য নয়।
| ফজর | 04:31 am ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:10 pm দুপুর |
| আছর | 04:45pm বিকাল |
| মাগরিব | 06:15 pm সন্ধ্যা |
| এশা | 07:30 pm রাত |
| জুম্মা | 1:30 pm দুপুর |